Kamol Katha

কমল কথা

বিনোদন

রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এবং পবিত্র একটি উৎসব। এটি মূলত জগৎ ও জীবনের নাথ, পরমেশ্বর *শ্রী জগন্নাথদেব* (ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রূপ), তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা *বলরাম* (বলভদ্র) এবং ভগিনী *সুভদ্রা দেবীর* পুণ্য রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে উদযাপিত হয়। রথযাত্রা উৎসবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো: রথযাত্রার মূল তাৎপর্য ও ইতিহাস গুন্ডিচা মন্দিরে গমন:* রথযাত্রার মূল উৎসবটি ওড়িশার পুরী ধামে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবী তাঁদের মূল মন্দির থেকে রথে চড়ে মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুন্ডিচা মন্দিরে যান। সেখানে তাঁরা ৭ দিন অবস্থান করেন। উল্টো রথযাত্রা:* গুন্ডিচা মন্দিরে ৭ দিন থাকার পর, আষাঢ়ের দশমী তিথিতে দেবতারা আবার তাঁদের মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। একে বলা হয় *ফিরতি রথ* বা *উল্টো রথযাত্রা*। সামাজিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব সাম্যের উৎসব: সনাতন ধর্মে রথযাত্রার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো সাম্য। অন্য সময়ে ভগবানের বিগ্রহ মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকে, যেখানে সবার প্রবেশাধিকার থাকে না। কিন্তু রথযাত্রার দিন ভগবান নিজেই মন্দির থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সেদিন রথের দড়ি টানার সুযোগ পান। পুণ্য অর্জন:বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে রথের দড়ি টানলে বা রথের ওপর জগন্নাথদেবের দর্শন লাভ করলে পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি মেলে এবং মনের সকল সৎ ইচ্ছা পূরণ হয়। বাংলার রথযাত্রা ও উৎসবের আমেজ পশ্চিমবঙ্গেও রথযাত্রা অত্যন্ত ধুমধামের সাথে পালিত হয়। মাহেশের রথযাত্রা: হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং বাংলার সবচেয়ে বিখ্যাত রথযাত্রা। ইসকন রথযাত্রা:* কলকাতার ইসকন মন্দিরের রথযাত্রাও দেশ-বিদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রথের মেলা: রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় রথের মেলা বসে। জিলিপি, পাঁপড় ভাজা, নতুন চারাগাছ কেনা এবং ছোট ছোট বাচ্চাদের রঙিন রথ টানার আনন্দ এই উৎসবকে একটি সার্বজনীন রূপ দেয়। "রথে চ বামনং দৃষ্ট্বা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।" অর্থাৎ, রথের ওপর বামন রূপী জগন্নাথদেবকে দর্শন করলে আর পুনর্জন্মের কষ্ট ভোগ করতে হয় না।

এই ক্যাটাগরিতে এখনো কোনো সংবাদ নেই।